প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে অনেকেই হিসাব করতে বসেন ঠিক কত টাকা কর দিতে হবে। বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থা স্তরভিত্তিক, অর্থাৎ আয়ের বিভিন্ন অংশের উপর বিভিন্ন হারে কর প্রযোজ্য হয়, যা হাতে হিসাব করতে গেলে অনেকের কাছেই জটিল মনে হয়।
এই ক্যালকুলেটরে বার্ষিক আয় এবং করদাতার ধরন (পুরুষ, মহিলা বা প্রবীণ নাগরিক) বেছে নিলে আনুমানিক প্রযোজ্য আয়কর দেখতে পাবেন। নিচে নিজের তথ্য দিয়ে হিসাব করে দেখুন।
বাংলাদেশের আয়কর স্তর কীভাবে কাজ করে
বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থায় একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকে, যাকে বলা হয় করমুক্ত আয়সীমা। এই সীমা করদাতার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়, যেমন মহিলা ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সাধারণত কিছুটা বেশি ছাড় দেওয়া হয়। করমুক্ত সীমার পরের অংশ ধাপে ধাপে বিভিন্ন হারে কর আরোপিত হয়, প্রথম স্তরে কম হারে, এরপর ক্রমান্বয়ে হার বাড়তে থাকে।
এই পদ্ধতিকে বলা হয় প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা, যেখানে বেশি আয়ের মানুষ আনুপাতিক হারে বেশি কর দেন। প্রতিটা স্তরের জন্য নির্দিষ্ট হার প্রযোজ্য হয়, পুরো আয়ের উপর সর্বোচ্চ হার প্রযোজ্য হয় না, শুধু সেই নির্দিষ্ট স্তরের আয়ের অংশের উপর সেই হার কার্যকর হয়।
কর হিসাবের সময় যা মাথায় রাখবেন
- সকল আয়ের উৎস অন্তর্ভুক্ত করুন: বেতন ছাড়াও ব্যবসা, ভাড়া বা অন্যান্য উৎস থেকে আয় থাকলে তাও মোট আয়ে যোগ করতে হবে।
- বিনিয়োগ রেয়াত: নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়, যা চূড়ান্ত করের পরিমাণ কমাতে পারে।
- নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা: সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা ও সুদ আরোপিত হতে পারে।
কর পরিকল্পনা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বছরের শুরুতেই নিজের আনুমানিক বার্ষিক আয় এবং তার উপর প্রযোজ্য কর সম্পর্কে ধারণা থাকলে সারা বছর জুড়ে আর্থিক পরিকল্পনা করা সহজ হয়। অনেকে বছরের শেষে এসে হঠাৎ বড় অঙ্কের কর দেওয়ার চাপে পড়েন, অথচ আগে থেকে পরিকল্পনা করলে এই চাপ এড়ানো সম্ভব।
এছাড়া বৈধ বিনিয়োগ মাধ্যমে কর রেয়াত নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগানো উচিত, কারণ এটা একইসাথে সঞ্চয় বাড়ানোর এবং করের বোঝা কমানোর একটা ভালো উপায়। তবে কর সংক্রান্ত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে একজন অভিজ্ঞ কর পরামর্শকের সাথে আলোচনা করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।