সরকারি সঞ্চয়পত্র বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম, বিশেষ করে যারা ঝুঁকি নিতে চান না তাদের কাছে এটা বেশ প্রিয়। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের ঘোষিত মুনাফার হার আর হাতে আসা প্রকৃত টাকার মধ্যে পার্থক্য থাকে, কারণ মুনাফার উপর উৎসে কর কেটে রাখা হয়।
এই ক্যালকুলেটরে বিনিয়োগের পরিমাণ, মুনাফার হার এবং মেয়াদ দিলে আপনি দেখতে পাবেন মোট মুনাফা কত হবে, কর কত কাটা হবে এবং হাতে প্রকৃত কত টাকা পাবেন। নিচে নিজের তথ্য দিয়ে হিসাব করে দেখুন।
সঞ্চয়পত্রে কীভাবে মুনাফা কর কাটা হয়
সঞ্চয়পত্র থেকে অর্জিত মুনাফার উপর সরকার নির্ধারিত হারে উৎসে কর কেটে রাখা হয়। সাধারণত একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত বিনিয়োগে তুলনামূলক কম হারে কর কাটা হয়, আর তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগে কর হার বেড়ে যায়। এই কর সরাসরি উৎসেই কেটে রাখা হয়, অর্থাৎ মুনাফা হাতে পাওয়ার আগেই এটা বাদ যায়।
বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আলাদা হয়, যেমন পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র বা পেনশনার সঞ্চয়পত্রের হারে পার্থক্য থাকে। তাই বিনিয়োগের আগে নির্দিষ্ট সঞ্চয়পত্রের সর্বশেষ মুনাফার হার জেনে নেওয়া জরুরি।
সঞ্চয়পত্রের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
- নিরাপত্তা: সরকার কর্তৃক নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত হওয়ায় এটি অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
- বিনিয়োগ সীমা: ব্যক্তি পর্যায়ে একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দেওয়া আছে।
- মেয়াদের আগে ভাঙানো: মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙাতে চাইলে মুনাফার হার কমে যেতে পারে।
কাদের জন্য সঞ্চয়পত্র উপযুক্ত
যারা ঝুঁকিহীন এবং নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা চান, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা যাদের কাছে শেয়ারবাজার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ অপরিচিত মনে হয়, তাদের জন্য সঞ্চয়পত্র একটা ভালো বিকল্প। নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকে এটাকে মাসিক বা বার্ষিক আয়ের অতিরিক্ত উৎস হিসেবেও ব্যবহার করেন।
তবে বিনিয়োগ করার আগে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে তুলনা করে দেখা উচিত, কারণ মেয়াদ, মুনাফার হার এবং কর কর্তনের নিয়মে পার্থক্য থাকে। প্রয়োজনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের নিকটস্থ কার্যালয়ে গিয়ে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।