ইসলামী উত্তরাধিকার আইন বা ফারায়েজ একটা সুনির্দিষ্ট কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটা ওয়ারিশের অংশ আগে থেকেই নির্ধারিত। তবে পরিবারে কারা জীবিত আছেন তার উপর ভিত্তি করে প্রকৃত হিসাব পরিবর্তিত হয়, যেমন সন্তান থাকলে ভাইবোনের অংশ আর থাকে না, আবার পিতা জীবিত থাকলে ভাইবোনও বঞ্চিত হন।
এই ক্যালকুলেটরে স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা এবং ভাইবোনের তথ্য দিলে একটা সাধারণ হিসাব দেখতে পাবেন কে কত অংশ পেতে পারেন। মনে রাখবেন, এটি একটি প্রাথমিক ধারণা মাত্র, জটিল পারিবারিক পরিস্থিতিতে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিচে নিজের পরিবারের তথ্য দিয়ে দেখুন।
ফারায়েজে কারা বঞ্চিত হন
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, কিছু নিকটাত্মীয়ের উপস্থিতিতে আরও কিছু দূরের আত্মীয় সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। যেমন মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পিতা জীবিত থাকলে সহোদর ভাইবোনেরা সাধারণত কোনো অংশ পান না। এই নিয়মকে বলা হয় হাজব, অর্থাৎ বঞ্চিতকরণ।
এই কাঠামো অনুসরণ করেই ফারায়েজের হিসাব করা হয়, তাই শুধু পরিবারে কে কে আছেন তা জানলেই হবে না, বরং তাদের মধ্যে কার উপস্থিতিতে কে বঞ্চিত হচ্ছেন তাও বিবেচনা করতে হয়। এই ক্যালকুলেটরে এই মৌলিক নিয়মগুলো অনুসরণ করে একটা সরল হিসাব দেখানো হয়েছে।
সাধারণ কিছু নির্ধারিত অংশ
- স্ত্রী: সন্তান থাকলে ১/৮ অংশ, সন্তান না থাকলে ১/৪ অংশ পান।
- স্বামী: সন্তান থাকলে ১/৪ অংশ, সন্তান না থাকলে ১/২ অংশ পান।
- মাতা: সন্তান বা একাধিক ভাইবোন থাকলে ১/৬ অংশ, না থাকলে ১/৩ অংশ পান।
- কন্যা (একজন, পুত্র না থাকলে): ১/২ অংশ পান, একাধিক কন্যা থাকলে একসাথে ২/৩ অংশ ভাগ করে নেন।
কেন পেশাদার পরামর্শ জরুরি
ফারায়েজের হিসাব অনেক সময় বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে যখন পরিবারে একাধিক স্তরের আত্মীয় জীবিত থাকেন, যেমন নাতি-নাতনি, সৎ ভাইবোন বা দাদা-দাদি। এমন পরিস্থিতিতে শুধু একটা সাধারণ ক্যালকুলেটরের উপর নির্ভর করা ঠিক নয়, কারণ ভুল হিসাবে পারিবারিক বিরোধ তৈরি হতে পারে।
তাই বড় অঙ্কের সম্পত্তি বা জটিল পারিবারিক কাঠামোর ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী বা ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ারিশান সনদ ও বন্টননামা তৈরি করিয়ে নেওয়া উচিত। এতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।