ব্যাংকিং ও আর্থিক ক্যালকুলেটর

ব্যাংক লোন ক্যালকুলেটর: মাসিক কিস্তি (EMI) সহজে হিসাব করুন

ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটাই হলো, প্রতি মাসে কত টাকা কিস্তি দিতে হবে। অনেকেই লোনের পরিমাণ আর সুদের হার দেখে একটা মোটামুটি ধারণা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু হাতে হিসাব করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেন। অথচ এই হিসাবটা একদম সঠিকভাবে জানা থাকলে মাসের বাজেট সাজানো অনেক সহজ হয়ে যায়।

এই ব্যাংক লোন ক্যালকুলেটরে লোনের পরিমাণ, বার্ষিক সুদের হার এবং মেয়াদ দিলেই আপনি সাথে সাথে দেখতে পাবেন মাসিক কিস্তি কত আসবে, পুরো মেয়াদে মোট কত সুদ গুনতে হবে এবং সব মিলিয়ে ব্যাংককে কত টাকা ফেরত দিতে হবে। নিচে ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করে দেখুন।

লাইভ ক্যালকুলেটর

EMI হিসাব করুন

লোনের তথ্য দিন, ফলাফল নিচে দেখতে পাবেন

সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত দিতে পারবেন

দয়া করে সঠিক মান দিন। সব ঘর অবশ্যই শূন্যের বেশি হতে হবে।

হিসাবের ফলাফল

মাসিক কিস্তি (EMI)
৳ ০
মোট সুদ
৳ ০
মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ
৳ ০

এই হিসাবটি আনুমানিক। প্রকৃত EMI ব্যাংকের প্রসেসিং ফি, ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য চার্জের উপর নির্ভর করে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

EMI আসলে কীভাবে হিসাব হয়

EMI মানে Equated Monthly Installment, অর্থাৎ সমান মাসিক কিস্তি। প্রতি মাসে আপনি যে টাকাটা ব্যাংককে দেন তার একটা অংশ যায় আসল টাকা শোধে, আর বাকিটা যায় সুদ বাবদ। শুরুর দিকে সুদের অংশ বেশি থাকে, মেয়াদ যত এগোয় আসলের অংশ তত বাড়তে থাকে। এই পদ্ধতিকে বলে অ্যামোর্টাইজেশন।

হিসাবের পেছনের সূত্রটা মোটামুটি এরকম, মাসিক সুদের হার এবং মোট কিস্তির সংখ্যা দিয়ে আসল ও সুদ মিলিয়ে এমন একটা সমান অংক বের করা হয় যা প্রতি মাসে দিলে মেয়াদ শেষে পুরো লোন শোধ হয়ে যায়। হাতে কষে এই হিসাব করা বেশ সময়সাপেক্ষ, তাই উপরের ক্যালকুলেটরটা ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়।

মাসিক কিস্তিকে যেসব বিষয় প্রভাবিত করে

  • লোনের পরিমাণ: যত বেশি টাকা ধার নেবেন, কিস্তিও তত বাড়বে।
  • সুদের হার: ব্যাংকভেদে এবং লোনের ধরনভেদে সুদের হার আলাদা হয়, এক শতাংশ পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে অনেক টাকার ফারাক তৈরি করে।
  • মেয়াদ: মেয়াদ যত লম্বা হবে, মাসিক কিস্তি তত কম মনে হবে, কিন্তু মোট সুদ তত বেশি গুনতে হবে।

লোন নেওয়ার আগে যা মাথায় রাখবেন

লোন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু মাসিক কিস্তি কত আসছে সেটাই নয়, বরং আপনার মাসিক আয়ের কত শতাংশ এই কিস্তিতে চলে যাচ্ছে সেটাও হিসাব করা জরুরি। সাধারণত আর্থিক পরামর্শদাতারা পরামর্শ দেন মাসিক আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি যেন কোনো কিস্তিতে না যায়। এছাড়া প্রসেসিং ফি, আগাম পরিশোধের শর্ত এবং সুদের হার স্থির নাকি পরিবর্তনশীল তা ব্যাংকের কাছ থেকে স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

একাধিক ব্যাংকের অফার তুলনা করে দেখাও বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক সময় একই ধরনের লোনে বিভিন্ন ব্যাংকে সুদের হারে বেশ পার্থক্য থাকে, আবার কোনো কোনো ব্যাংক নির্দিষ্ট পেশার মানুষদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে। তাই শুধু পরিচিত ব্যাংকে না গিয়ে একটু খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

সপ্না আক্তার

সপ্না আক্তার

লেখক

সপ্না আক্তার বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক বিষয় নিয়ে লিখে থাকেন। তিনি সাধারণ মানুষের জন্য জটিল আর্থিক হিসাবগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন, যাতে যে কেউ নিজে নিজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মতামত জানান

এই ক্যালকুলেটর সম্পর্কে আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে নিচে লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।